জেনে নিন শরীরে লুকানো লাভ সিক্রেটের পিছনের বিজ্ঞান - press card news

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, 25 December 2024

জেনে নিন শরীরে লুকানো লাভ সিক্রেটের পিছনের বিজ্ঞান


প্রেসকার্ড নিউজ,লাইফস্টাইল ডেস্ক,২৫ ডিসেম্বর: 'লাভ হরমোন' নামে পরিচিত অক্সিটোসিন মানুষের মানসিক ও সামাজিক বন্ধন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।এই হরমোন চোখ দিয়ে কাউকে দেখে সংযুক্তি বাড়াতে,আস্থা তৈরি করতে এবং উদারতা তৈরি করতে সাহায্য করে।এটি শুধু সম্পর্কই মজবুত করে না,মানসিক চাপ কমাতে এবং মনকে শান্ত রাখতেও সহায়ক।টোকিও ইউনিভার্সিটির গবেষণায় এটি স্মৃতিশক্তির উন্নতিতেও উপকারী বলে প্রমাণিত হয়েছে।

প্রেম শুধুমাত্র চোখ দিয়ে শুরু হয়।আজ আমরা জানব কীভাবে একজন মানুষকে শুধু চোখ দিয়ে দেখে প্রেমে পড়া যায়।অর্থাৎ প্রেম কেন চোখ দিয়ে শুরু হয় এবং এর পিছনের বিজ্ঞান কী?

অনেক ডাক্তার এবং বিজ্ঞানী বিশ্বাস করেন যে একজন মানুষ যখন কারও দিকে তাকায় তখন তার শরীর থেকে অক্সিটোসিন নামক হরমোন নিঃসৃত হয়।এটি মানুষের মন এবং শরীরে মানসিক এবং সামাজিক সংযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।তাই একে ‘লাভ হরমোন’ এবং ‘কাডল হরমোন’ও বলা হয়।কারণ আপনি যখন কাউকে দেখেন এবং ভালো অনুভব করেন তখন অক্সিটোসিন হরমোন নিঃসৃত হয়।

এরপরে এই হরমোন মস্তিষ্কে এমন ইতিবাচক আবেগ তৈরি করে,যা পারস্পরিক স্নেহ এবং সম্পর্ককে শক্তিশালী করে।  কাউকে দেখার পর এভাবেই শুরু হয় ভালোবাসার গল্প।এখন আমরা অক্সিটোসিন হরমোন সম্পর্কে আরও অনেক কিছু জানব।

অক্সিটোসিন হরমোন আত্মবিশ্বাস বাড়ায় -

এই হরমোন নিঃসরণের কারণেই মানুষের একে অপরের প্রতি আস্থা তৈরি হয়।এই হরমোন মানুষকে সদয় এবং সংবেদনশীল করে তোলে,তাদের অন্যদের অনুভূতি আরও ভালোভাবে বুঝতে সক্ষম করে।এই হরমোন শুধুমাত্র গার্লফ্রেন্ড বা বয়ফ্রেন্ডের মধ্যে সম্পর্ক নয়,বাবা-মা এবং সন্তানের সম্পর্ক,রোমান্টিক অংশীদারদের মধ্যে সম্পর্ক এবং বন্ধুদের মধ্যে রসায়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।এই কারণেই বলা হয় যে মানুষ প্রেমে উন্নতি করে।

এই হরমোন কোথা থেকে নিঃসৃত হয়?

মানুষের মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস থেকে অক্সিটোসিন নিঃসৃত হয় এবং পিটুইটারি গ্রন্থির মাধ্যমে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।  আলিঙ্গন,করমর্দন বা কারও সাথে গভীর আবেগপূর্ণ কথাবার্তার মাধ্যমেও অক্সিটোসিন হরমোন নিঃসৃত হয়।এগুলি এতই কার্যকর যে তারা চাপের পরিস্থিতিতেও একজন ব্যক্তিকে শান্ত এবং স্থিতিশীল বোধ করায়।এতে মনে সুখ ও শান্তির অনুভূতিও তৈরি হয়।এই হরমোনটি মানসিক এবং সামাজিক সংযোগের ভিত্তি।শুধু তাই নয়,সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী অক্সিটোসিন আরও অনেক কিছু করতে পারে।  অক্সিটোসিন শুধুমাত্র শেখার এবং স্মৃতিতে ভূমিকা পালন করে না,অনেক ধরনের চিকিৎসায়ও সহায়ক হতে পারে।

অক্সিটোসিন হরমোনের প্রভাব -

মানুষের মস্তিষ্ক এবং তার আচরণ বোঝার জন্য এই হরমোনের উপর আরও একটি গবেষণা করা হয়েছিল।গবেষক জুনপেই তাকাহাশি এবং টোকিও ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্সের অধ্যাপক আকিয়োশি সাইতোশ মস্তিষ্কে অক্সিটোসিনের প্রভাব নিয়ে গভীরভাবে গবেষণা করেছেন।তাদের গবেষণা শুধু স্মৃতিতে অক্সিটোসিনের প্রভাবই প্রকাশ করেনি,এটি ডিমেনশিয়ার চিকিৎসায় অত্যন্ত কার্যকর বলেও দাবি করেছে।

ইঁদুরের উপর পরীক্ষা -

অধ্যাপক সাইতোশ এবং তার দল ইঁদুরের উপর অক্সিটোসিনের প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেছেন।যদিও সামাজিক আচরণে অক্সিটোসিনের প্রভাব আগে থেকেই জানা ছিল,তবে মস্তিষ্কের জ্ঞানীয় ক্ষমতার উপর এর প্রভাব সম্পর্কে তথ্য সীমিত ছিল।গবেষণার লক্ষ্য ছিল অক্সিটোসিন স্মৃতি গঠন এবং বজায় রাখতে ভূমিকা পালন করে কিনা তা বোঝা।  এই গবেষণাটি সেইসব রোগের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ যেখানে মস্তিষ্কের ক্ষমতা প্রভাবিত হয়,যেমন- ডিমেনশিয়া এবং আলঝেইমার।

স্মৃতিতে অক্সিটোসিনের প্রভাব -

এই গবেষণায় গবেষকরা ইঁদুরের মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশে অক্সিটোসিন-নিয়ন্ত্রিত নিউরন সক্রিয় করেছেন।এরপর তারা ইঁদুরের বস্তু চেনার ক্ষমতা পরীক্ষা করেন।ফলাফলে দেখা গেছে যে অক্সিটোসিন নিউরনগুলি সক্রিয় করার ফলে স্মৃতিশক্তি এবং মানসিক প্রতিক্রিয়াগুলির সাথে যুক্ত মস্তিষ্কের অংশগুলিও সক্রিয় হয়।এই প্রভাব শুধুমাত্র দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিতে দেখা গেছে।এটি স্বল্পমেয়াদী স্মৃতিতে কোনও প্রভাব ফেলেনি।

ডিমেনশিয়া চিকিৎসার সম্ভাবনা -

এই গবেষণা ডিমেনশিয়া এবং আলঝেইমারের মতো রোগের জন্য নতুন আশা নিয়ে এসেছে।গবেষণা দেখায় যে অক্সিটোসিনের মাধ্যমে মস্তিষ্কে স্মৃতিশক্তি প্রভাবিত হতে পারে।  উপরন্তু,সামাজিক মিথস্ক্রিয়া এবং একাকীত্বের অভাবের মতো অবস্থা ডিমেনশিয়ার লক্ষণগুলিকে আরও খারাপ করতে পারে।অধ্যাপক সাইতোশ বিশ্বাস করেন যে অক্সিটোসিন এই সমস্যাগুলি সমাধানেও সাহায্য করতে পারে।

ড্রাগ চিকিৎসার জন্যও প্রয়োজনীয় -

গবেষণায় অক্সিটোসিনের ব্যবহার শুধুমাত্র মস্তিষ্কের রোগেই নয়,আসক্তির চিকিৎসায়ও কার্যকর প্রমাণিত হতে পারে। ডাঃ মেরেডিথ বেরি বলেছেন যে অক্সিটোসিন ওপিওড আসক্তির চিকিৎসায় ব্যবহার করা যেতে পারে।ওপিওডগুলি ব্যথার ওষুধে পাওয়া যায়,তবে দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহার আসক্তির ঝুঁকি বাড়ায়।অক্সিটোসিন ব্যবহার শুধুমাত্র এই ওষুধের নেতিবাচক প্রভাব কমাতে পারে না,আসক্তির ঝুঁকিও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad